রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুলিশ বাহিনীর দীর্ঘদিনের জনবল ও যানবাহনের সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮ জন পূর্ণমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যয় কমানোর বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্তে বিশেষ পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করা হলেও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তারা আগের মতোই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান, সরকারি বাসভবনে নিরাপত্তা এবং রাজধানীর বাইরে সফরের সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি সুরক্ষা পাবেন।
জানা গেছে, একজন মন্ত্রীর এসকর্ট দলে সাধারণত একজন উপপরিদর্শক এবং চারজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ যানও বরাদ্দ থাকে। এসব সদস্যের বেতন-ভাতা এবং যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি অর্থ থেকেই বহন করা হয়। ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা আগের মতো বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা পাবেন। এদিকে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জনবল সংকটও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় প্রায় এক হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৯০০ জন সদস্য কম থাকায় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের স্বল্পতাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের সহিংসতায় পুলিশের নিরাপত্তা ইউনিটের বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে একটি গাড়ি দিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল ও সরঞ্জাম নিয়ে পুলিশকে বাড়তি চাপের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন