ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ‘টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা যতবার নির্বাচন করেছেন, ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছেন’ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ তারেক রহমানের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে অর্থ পাচার বন্ধ করতে চায় সরকার: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সিরিয়ায় মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩৫ ৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ৩০ বছরে ঢাকায় নির্মাণ বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ প্রশাসনিক পর্যালোচনার বৃত্তে আটকা পে-স্কেল নতুন রাষ্ট্রপতি সেপ্টেম্বরে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে ইরানে হামলা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

৩০ বছরে ঢাকায় নির্মাণ বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে,
  • আপলোড সময় : ২৬ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১১:১৪ সময়
  • আপডেট সময় : ২৬ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১১:১৪ সময়
৩০ বছরে ঢাকায় নির্মাণ বেড়েছে ১৮৮ শতাংশ

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, গত ৩০ বছরে ঢাকার নির্মিত এলাকা প্রায় ১৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি কার্যকর ও টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বরং জলাশয় ও সবুজ এলাকা কমে যাওয়ায় অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাশয় ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তি বৃষ্টিপাত—সব মিলিয়ে ঢাকা এখন বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ও বন্যা-ঝুঁকিপূর্ণ মেগাসিটিগুলোর একটি।


গবেষকদের মতে, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তোলা, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে ঢাকায় সমন্বিত সবুজ অবকাঠামো ও আধুনিক বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে রাজধানীর স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা থেকে দুই সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সাড়ে পাঁচ বছর পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। চলতি বছরও রাজধানীর ১৪১টি এলাকাকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এসব এলাকার অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় পানি জমে ছিল।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ড্রেনে প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য জমে থাকা, খাল দখল, ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ এবং জনসচেতনতার অভাব—সব মিলিয়ে জলাবদ্ধতা আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ সমস্যা সমাধানে ড্রেনেজ নকশা পরিবর্তন, পানি নিষ্কাশনের পথ উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজধানীতে ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা ফিরে আসায় এসব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবর্তনের পর প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে রাজধানীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত সমন্বয় গড়ে ওঠেনি।


এদিকে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, ঢাকার স্যানিটেশন ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর পানি নিরাপত্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন কর্মসূচিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধারণের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষাতেই রাজধানীবাসীকে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি আরবকে পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদন দিচ্ছেন ট্রাম্প

সৌদি আরবকে পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদন দিচ্ছেন ট্রাম্প