দেশে বিনিয়োগনির্ভর ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে অর্থ পাচার রোধকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় বিনিয়োগের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধ করা গেলে দেশেই নতুন বিনিয়োগ বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাজধানীতে এক অর্থনৈতিক সম্মেলনের প্যানেল আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে গত ১৬ বছরে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। তার মতে, এই অর্থ দেশের ভেতরে থাকলে শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের গতি আরও বাড়ত।
তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে দক্ষ কর্মী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আত্মনির্ভর জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন করছে। নতুন গ্যাসকূপ খননের পাশাপাশি আগামী এক দশকের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে জমি, ঋণ ও কর-সুবিধার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে সরকার দ্রুত লাইসেন্স প্রদান ও স্বল্প সময়ের মধ্যে ইউটিলিটি সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তৈরি পোশাক, চামড়া ও লজিস্টিকস খাতের বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নতুন কয়েকটি সম্ভাবনাময় শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতারা বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন