আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে গুমের শিকার সব ব্যক্তির সন্ধান ও প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি বাগেরহাটের মোংলায় গুমের অভিযোগ ওঠা মিরাজ শেখসহ অতীতে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে হবে। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ আইনে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে গুমকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তার দাবি, বিরোধী মত ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বহু মানুষ এই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাদের অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং স্বজনেরা বছরের পর বছর ধরে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন।
তিনি ‘আয়নাঘর’-এ আটক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বলেন, এমন ঘটনা মানবতার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানের দাবিতে পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও কষ্টের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও অনেক পরিবার এখনো তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান পায়নি বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। মোংলার কারাগারে মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগের বিষয়টিও গভীরভাবে তদন্তের দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তার আশঙ্কা, এসব উদ্যোগে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ ও জবাবদিহির পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া দেশে এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আর কোনো গুমের ঘটনা না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, গুমের শিকার প্রতিটি মানুষের পরিবারের কান্নার জবাব দিতে হবে। সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির মাধ্যমেই একটি মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন