নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেমে যেতে পারে—এমন আশাবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ফের হামলার হুমকি দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন তিনি।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তার দাবি, ইরান আর বেশি সময় এই সংঘাত চালিয়ে যেতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তেহরান। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের সঙ্গে একমত নন হোয়াইট হাউজের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা। তাদের আশঙ্কা, সংঘাত ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্তও গড়াতে পারে। এর আগে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ট্রাম্প একাধিক সময়সীমার কথা বললেও সেগুলোর কোনোটিই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
এর মধ্যেই ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। নাতাঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থিত এই অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় ভূগর্ভে রয়েছে দুটি গভীর টানেল কমপ্লেক্স। রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স এলাকায় কিছু তৎপরতা তার নজরে এসেছে। ইরানকে কোনো ধরনের চালাকি না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর হামলা চালাতে পারে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই এলাকায় হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগকে অভিযানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হলেও ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রান্তেও বাড়ছে উত্তেজনা। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, সাম্প্রতিক হুথি হামলায় খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণাঞ্চলের চারটি শহরে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুথিরাও দাবি করেছে, তারা খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি এবং আশপাশের তেল অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ সতর্কতার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা দিলেও পুরো অঞ্চলের ঝুঁকি কাটেনি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন