ঢাকা | |

পাওনা ৩ লাখ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী বন্ধুকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন মাসুম

রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর মাটিচাপা অবস্থায় ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম ওরফে রনির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
  • আপডেট সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫০ সময়
পাওনা ৩ লাখ টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী বন্ধুকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন মাসুম

রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর মাটিচাপা অবস্থায় ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম ওরফে রনির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তার বন্ধু মাসুম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক মাসুমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।


নিহত ওয়াসিম লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শনির আখড়ায় থাকতেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নুসরাত জাহান লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানায়, ওয়াসিম ও মাসুম একই এলাকায় বড় হয়েছেন এবং একই স্কুলে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বও ছিল। ওয়াসিম জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতার ব্যবসা করতেন, আর মাসুম ইমিটেশন গয়নার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াসিমের কাছে মাসুমের তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছিলেন ওয়াসিম। মঙ্গলবার টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের কারখানায় ডেকে নেন মাসুম। সেখানে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ বলছে, এ সময় মাসুম প্রথমে ওয়াসিমের মাথায় আঘাত করেন। পরে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গুম করতে হাত-পা বেঁধে এবং মুখে পলিথিন ও টেপ পেঁচিয়ে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। মরদেহের ওপর বালি ও সিমেন্টের প্রলেপও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর ওয়াসিম নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তার স্বজনরা। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে ওয়াসিমের বন্ধু মাসুমকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকার লালবাগের বি সি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনের পাশ থেকে মাটি খুঁড়ে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ওয়াসিমের হাত-পা বাঁধা এবং মুখ পলিথিনে মোড়ানো ছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।


নিহতের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার বাবা মাসুমকে টাকা ধার দিয়েছিলেন। কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছিল না। ঘটনার দিন চেক আনতে যাওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন ওয়াসিম। এ ঘটনায় পুলিশ বলছে, পাওনা তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আদালতে মাসুমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর এখন হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ও এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের