ঢাকা | |

পরিবহন শ্রমিকদের এসব নৃশংসতার শেষ কোথায়

কখনো চলন্ত বাসে একা নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, কখনো ধর্ষণের পর হত্যা করে নির্জন স্থানে লাশ ফেলে দেওয়া। আবার
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
  • আপডেট সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৯ সময়
পরিবহন শ্রমিকদের এসব নৃশংসতার শেষ কোথায়

কখনো চলন্ত বাসে একা নারী যাত্রীকে ধর্ষণ, কখনো ধর্ষণের পর হত্যা করে নির্জন স্থানে লাশ ফেলে দেওয়া। আবার কখনো যাত্রীকে ছুরিকাঘাত বা মারধর করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া, এমনকি ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। বিচ্ছিন্ন হলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন শ্রমিকদের একাংশের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উঠছে। ফলে বড় প্রশ্ন—গণপরিবহনে এই অপরাধপ্রবণতা বন্ধ করবে কে?


পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, দেশে গণপরিবহনে প্রায় ৭০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের মধ্যে কে অপরাধপ্রবণ আর কে ভালো, তা যাচাই করা মালিকদের পাশাপাশি প্রশাসনের জন্যও কঠিন। তাদের দাবি, শ্রমিকদের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ না থাকা, কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক অস্থিরতাও এর পেছনে ভূমিকা রাখছে।


তবে অতীতের কয়েকটি ঘটনা এই সমস্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। গত ১৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। যাত্রীদের অন্যরা নেমে যাওয়ার পর চালক, সহকারীসহ তিনজন ওই তরুণীর ওপর নির্যাতন চালায়। পরে তাদের আটক করে পুলিশ। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে একই মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।


২০১৭ সালে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী রূপা খাতুনকে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী সাইদুর রহমান পায়েলকে বাস থেকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চালক ও দুই সহকারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই বছর ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে এক পোশাকশ্রমিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।


সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে বাসের ভেতর হত্যা করে তার মরদেহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিতে চালক, সহকারী ও সুপারভাইজার মিলে তাকে হত্যা করেন। পরে তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং চালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজে অস্থিরতা, নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি এবং বিচারহীনতার পরিবেশ অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে মাদক মানুষের স্বাভাবিক বিচারবোধ ও আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের দাবি, শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত। তাদের মতে, শুধু গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার সময় নয়, কর্মরত অবস্থায়ও নিয়মিত মাদক পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।


মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য, শুধু মালিক সমিতির উদ্যোগে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধী শনাক্তকরণ, নিয়মিত মাদক পরীক্ষা এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতাও প্রয়োজন। গণপরিবহনে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন প্রশ্ন একটাই—অপরাধী শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের অপরাধপ্রবণতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ কবে নেওয়া হবে?

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের