রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো মিছিল বা সাংগঠনিক তৎপরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হবে। যে কোনো মূল্যে দলটির মিছিল ও কার্যক্রম প্রতিহত করতে থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সোমবার ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। এতে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজধানীর ৫০টি থানার ওসিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গুলশানে সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। পুলিশ জানায়, মিছিল শুরুর মাত্র আট মিনিট আগে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে রাজধানীর কোথাও যাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল, সমাবেশ বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে থানার কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক তৎপরতা নয়, রাজধানীতে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি এবং আবাসিক হোটেলগুলোর অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। থানার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ওসিদের নিয়মিত থানায় উপস্থিত থাকার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গড়িমসি কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গ না করার জন্য সতর্ক করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
জরুরি প্রয়োজনে কোনো ওসিকে থানার বাইরে যেতে হলে তা সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর অনুপস্থিতিতে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী ও গোয়েন্দা ইউনিট এবং থানা পুলিশকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে থানাভিত্তিক জবাবদিহি জোরদারের বার্তা দিয়েছে ডিএমপি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন