প্রায় এক দশক পর আবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু ভোটের তারিখ ঘোষণার আগেই দলটির সামনে তৈরি হয়েছে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও অনেক এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নেমে গেছে। সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে গ্রামাঞ্চলের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপে ভোট হবে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মে।
নির্বাচন কমিশনের কমিশন সভা শেষে কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়েই সাত ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর ভোটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তপশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়নে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।
স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নয়বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ থেকে ২০২২ সালে। এরপর অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেশ কিছু চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধি অনুপস্থিত বা পলাতক থাকায় স্থানীয় সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। নতুন নির্বাচন হলে এসব পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচন বিএনপির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১-২২ সালের নির্বাচন বর্জনের পর প্রায় দশ বছর ইউপি ভোটের বাইরে ছিল দলটি। এবার অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক নেতার প্রার্থিতার কারণে একক প্রার্থী বাছাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের মোকাবিলা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে কৌশল ঠিক করাও দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। অনেক এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে মাঠেও সক্রিয় করেছে দলটি। এবারের ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় ভিত্তিতে। সংশোধিত আইনে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের পছন্দের একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও ভোটকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ধাপে ধাপে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিশন। প্রতিটি দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি এতে অংশ নেবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়াই হবে এই আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হচ্ছে তৃণমূলের রাজনীতি। এখন দেখার বিষয়—হাজার হাজার সম্ভাব্য প্রার্থীর ভিড় সামলে দলগুলো কীভাবে একক প্রার্থী ঠিক করে এবং নির্বাচন কমিশনের সাত ধাপের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কতটা নির্বিঘ্নে বাস্তবায়িত হয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন