মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তুলে তিনটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার অভিযোগ, এসব গণমাধ্যম তার প্রশাসন, প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে। ট্রাম্প তার বার্তায় বলেন, কথিত ভুয়া সংবাদ প্রচারের কারণে এই তিন গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করতে পেরে তিনি গর্বিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও কিছু গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে পলিটিকোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় মার্কিন সরকারের কাছ থেকে পলিটিকো প্রায় ৮০ লাখ ডলারের একটি সাবস্ক্রিপশন সুবিধা পেয়েছিল। ট্রাম্প এই অর্থপ্রাপ্তিকে আইনি ভিত্তিহীন এবং দুর্নীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে ট্রাম্পের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও নিষেধাজ্ঞার আইনগত ভিত্তি নিয়ে আলাদা করে প্রশ্ন উঠছে।
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রেসিডেন্টের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে আগেও রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞাটি কতদিন বহাল থাকবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন