একটি বিতর্কিত অডিও ফাঁসের পর পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে ঘিরে রহস্য যেন আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করলেও প্রত্যাহার হওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তা এখন কোথায়—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছে না পুলিশ প্রশাসন। সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য রয়েছে—এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপকমিশনার পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্তের পাশাপাশি রাকিবুল হাসানের বর্তমান অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান বলেছেন, তাকে সেখানে নেওয়া হয়নি এবং তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটিও তার জানা নেই।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তারাও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছেও এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি রাকিবুল হাসানের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার একটি কথোপকথনের অডিও। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পুলিশের সক্ষমতা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা বিষয়ে তাকে মন্তব্য করতে শোনা যায়।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এর সত্যতা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে প্রশাসনিক কারণে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কী উঠে আসে এবং রাকিবুল হাসানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য পাওয়া যায়—সেদিকেই নজর রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন