ঢাকা | |

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সামনে ৩টি পথ খোলা আছে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ বন্ধে সাত দফা শর্ত দেওয়ার পরই বড় মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের প্রস্তাবের কয়েক
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৭ সময়
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সামনে ৩টি পথ খোলা আছে: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ বন্ধে সাত দফা শর্ত দেওয়ার পরই বড় মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ এখনো খোলা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে খুব শিগগিরই বড় কোনো পরিবর্তন ঘটতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই বড় কিছু ঘটতে পারে। ইরানের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে আরও সংকটে ফেলা অথবা বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।


তবে এর মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এসেছে আলোচনার একটি শর্তযুক্ত বার্তা। কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দফা দাবি পাঠিয়েছে তেহরান। যুদ্ধের অবসান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই এসব শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সংঘাতের অবসানসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ হলে তারা ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় থাকবেন।


অর্থাৎ ইরানের প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক বিধিনিষেধ শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর দাবি। এদিকে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। দুই নেতা একই সময়ে নিউইয়র্কে অবস্থান করায় সম্ভাব্য এই বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের আওতায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিলাসবহুল পণ্য কেনাকাটা ও চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক সেন্ট্রাল কমান্ডও কঠোর বার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা বড় ধরনের নতুন হামলা চালালে অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধেও প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।


ফলে একদিকে ইরানের সাত দফা শর্ত, অন্যদিকে ট্রাম্পের আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন একটি কূটনৈতিক মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ইরানের সাত দফা দাবির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও সামনে আসেনি। ফলে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কতটা এগোয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক

আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক