যুদ্ধের উত্তেজনা যখন নতুন করে বাড়ছে, ঠিক তখনই আলোচনার দরজা খুলতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে এনেছে ইরান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, তিনি এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে আছেন। একই সঙ্গে খুব বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তিনি এখন ‘ডিসাইডিং মোডে’ আছেন। তিনি জানান, তেহরানকে মোকাবিলায় তিনটি পথ সামনে রয়েছে—সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা অথবা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো। একই সাক্ষাৎকারে আগামী দিনে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসিন রেজাই জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল তিনটি দাবি হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। এসব শর্ত পূরণ হলে তেহরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত বলে তিনি জানিয়েছেন। অর্থাৎ একদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য শর্ত দিচ্ছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনও সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথই খোলা রাখছে। ট্রাম্প ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে আসে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ তাদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে। নতুন হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমান চলাচল ঘিরে নতুন চাপ। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিদেশি বিমানবন্দর যদি এসব সংস্থাকে জ্বালানি, অবতরণ, স্থলসেবা বা টিকিট বিক্রির মতো সুবিধা দেয়, তাহলে তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ইতোমধ্যে ইরানি বিমান চলাচলের ওপর চাপের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। জর্জিয়া ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বন্ধ করেছে এবং ইরাকও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি বিমান সংস্থার ফ্লাইট স্থগিত করার পথে গেছে। ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ইরানের তিন শর্ত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত এবং নতুন হামলার আশঙ্কা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। একদিকে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনেই যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন