একটি নির্মাণকাজের ভুলেই হঠাৎ থমকে গেল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বিমান চলাচল। নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় দুর্ঘটনাবশত ফাইবার অপটিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইন কেটে যাওয়ার পর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রভাবে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। সোমবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে এই বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নেওয়ার্ক বিমানবন্দরে ১৬৮টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৯৭টি বিলম্বিত হয়।
একই সময়ে ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল এবং ১৮৯টি ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ফলে বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু করা সম্ভব হয়। তবে নেওয়ার্ক ও জেএফকে বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে রেল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ করা একটি দল ভুলবশত গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার লাইন কেটে ফেলে। এর ফলে বিমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডারেল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ব্যস্ত বিমানবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
এদিকে বিমান চলাচলের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ফেডারেল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, এই বিপর্যয়ের পেছনে দুটি পৃথক সমস্যা ছিল। প্রথমে মূল টেলিযোগাযোগ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ব্যাকআপ হিসেবে রাখা ফাইবার লাইনটিও নির্মাণকাজের সময় কেটে গেছে। ফলে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
বেডফোর্ড জানান, প্রাথমিক যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে এবং দুপুরের মধ্যে সেটি কার্যকর হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাকআপ ফাইবার লাইন মেরামত করতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। একটি নির্মাণকাজের ভুল থেকে তৈরি এই প্রযুক্তিগত সমস্যাই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত বিমান চলাচল অঞ্চলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ফলে ফাইবার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এর ব্যাকআপ অবকাঠামোর গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন