ঢাকা | |

‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হলো, যেখানে ইরানের যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে মার্কিন
  • আপলোড সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫২ সময়
  • আপডেট সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৫:৫২ সময়
‘দাঁড়াও, এখানে কী করো তুমি?’—সিএনএন সাংবাদিককে ট্রাম্প

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হলো, যেখানে ইরানের যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির মুখে পড়লেন সিএনএনের সাংবাদিক কেটলান কলিন্স। ট্রাম্প প্রশ্ন তুললেন, জাতিসংঘে সিএনএনের সাংবাদিক কেন উপস্থিত—আর কলিন্স জানিয়ে দিলেন, জাতিসংঘই তাদের সেখানে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে।  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ট্রাম্প প্রবেশের সময় তাকে প্রশ্ন করেন কেটলান কলিন্স। তিনি জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে। এর আগে কলিন্স উল্লেখ করেন, সিএনএনের এক জরিপে দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন না যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে।


জবাবে ট্রাম্প প্রথমেই সিএনএনের উপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘে সিএনএনের সাংবাদিকদের দেখে তিনি অবাক হয়েছেন এবং তাদের সেখানে থাকা উচিত নয়। তখন কলিন্স জবাব দেন, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষই তাদের সেখানে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। এরপরও ট্রাম্প বলেন, তাদের সেখানে থাকা উচিত নয় এবং দাবি করেন, সিএনএন আগে তাকে কাভার না করার কথা জানিয়েছিল।


তবে কলিন্স নিজের প্রশ্নে ফিরে গিয়ে আবার জানতে চান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কবে শেষ হবে। ট্রাম্প তখন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক অগ্রগতি করছে এবং দেশ ভালো করছে। এরপর তিনি আর বিস্তারিত সময়সীমা জানাননি।  এই ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের মধ্যে চলমান বিরোধও রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়। এর বিরুদ্ধে তিনটি সংবাদমাধ্যমই আদালতে মামলা করেছে। তারা দাবি করেছে, এই নিষেধাজ্ঞা সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। মামলাটির শুনানি ২৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। 


তবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জাতিসংঘের নিজস্ব অনুমোদন থাকায় এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কাভার করছেন। ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে কেটলান কলিন্সের এই কথাকাটাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যকার চলমান বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।  এদিকে একই দিনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, চুক্তি হলে একটি পথ তৈরি হবে, আর চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। 


জাতিসংঘের সদর দপ্তরে কয়েক মুহূর্তের এই কথোপকথন তাই শুধু একজন সাংবাদিকের প্রশ্ন ও একজন প্রেসিডেন্টের জবাবের ঘটনা হয়ে থাকেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরান যুদ্ধ, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার এবং হোয়াইট হাউস ও গণমাধ্যমের চলমান আইনি বিরোধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?

ভিডিও ভাইরালের পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ পড়ছেন পাভেল?