একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক তিনটি যানবাহন—এরপরই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে নিরাপত্তা আতঙ্ক। সশস্ত্র পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পাঁচজনকে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে এই গ্রেপ্তার হলেও, তারা আসলে কী পরিকল্পনা করছিল—এখনো তা স্পষ্ট করেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারের ওয়েলফোর্ড এলাকায় রোববার ভোরে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সময় ভোরে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহনের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় সশস্ত্র পুলিশ। পরে তদন্তে যুক্ত হয় ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশ।
ঘটনাস্থলে থাকা তিনটি যানবাহন ঘিরে প্রায় ৪০০ মিটারের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল সেখানে পৌঁছে গাড়িগুলো পরীক্ষা শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের প্রায় ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাকেও সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনই পুলিশের হেফাজতে আছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তারা কোথা থেকে এসেছেন কিংবা কোনো হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পুলিশ।
এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে ঘটনাস্থলের কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি থাকায়। ঘটনাস্থলের কাছে রয়েছে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি। ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে জুলাই মাসে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক যানবাহন পাওয়া এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ পুলিশ এমন কোনো তথ্য দেয়নি যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ইরানের সঙ্গে যুক্ত, কিংবা তারা ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তদন্তকারীরা এখন যানবাহনগুলো পরীক্ষা করার পাশাপাশি অন্যান্য আলামত ও তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। ঘটনার সঙ্গে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরিষ্কার হতে পারে।
সব মিলিয়ে, একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক যানবাহন ঘিরে ব্রিটেনে যে নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন। পাঁচজনের গ্রেপ্তার নিশ্চিত হলেও ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানায়নি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন