মালয়েশিয়ার কাছে তিন গোলের ধাক্কা—এরপর আর কোনো ভুলের সুযোগ নেই বাংলাদেশের সামনে। প্রথম ম্যাচে গোলের পর গোল হজম করে হতাশ করা বাংলাদেশ এবার মুখোমুখি হচ্ছে সিঙ্গাপুরের। এই ম্যাচে হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আজকের ম্যাচে জয়ই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। ফিফা আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ। তবে অভিষেক ম্যাচটা মোটেও সুখকর হয়নি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে লাল-সবুজের দল। প্রথমার্ধেই আরিফ আইমানের জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বার্গসন আরও একটি গোল করলে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচটিতে বাংলাদেশের আক্রমণ ছিল বেশিরভাগ সময় নিষ্প্রভ। গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। শেষদিকে হামজা চৌধুরীর একটি প্রচেষ্টা ছাড়া বলার মতো তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই গোল করেছে মালয়েশিয়া। এবার সেই হতাশা ভুলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ। ‘ক’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচটি আজ জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ফিফাও জানিয়েছে, দুই দলই প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ায় আজকের ম্যাচে হারলে তাদের পরবর্তী পর্বে ওঠার আশা শেষ হয়ে যাবে।
শক্তিমত্তা ও র্যাংকিংয়ের দিক থেকে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। তবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ টমাস ডুলি এসব হিসাব নিয়ে ভাবতে চান না। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তার লক্ষ্য এখন একটাই—সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট। ডুলি বলেছেন, মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তারা যে ধরনের ফুটবল খেলতে চেয়েছিলেন, সেটি খেলতে পারেননি। তাই দলের ভেতরে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এবার সেই পারফরম্যান্সের জবাব মাঠেই দিতে চান তারা।
বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাসের জায়গা হতে পারে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অতীতের লড়াই। তবে সাম্প্রতিক ইতিহাস খুব একটা স্বস্তির নয়। গত এক বছরে দুই দল দুবার মুখোমুখি হয়েছে এবং দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে সিঙ্গাপুর। তাই আজকের ম্যাচটিকে প্রতিশোধের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার সামিত সোম। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সামিত জানিয়েছেন, তারা ফুটবলার হিসেবে সবসময় জিততে চান এবং ভালো করতে চান। গত দুই হারের স্মৃতি থেকেই এবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা নিচ্ছেন তারা।
শেখ মোরসালিনও জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার ম্যাচের পর দলের চিন্তা এখন পুরোপুরি পরের ম্যাচকে ঘিরে। তার লক্ষ্যও জয়। তবে সিঙ্গাপুরও প্রথম ম্যাচে হেরে এসেছে। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছে তারা। ফলে দুই দলের কাছেই আজকের ম্যাচটি টিকে থাকার লড়াই। বাংলাদেশের সামনে তাই সমীকরণ খুব পরিষ্কার—ভুল কমাতে হবে, আক্রমণে ধার বাড়াতে হবে এবং সুযোগ পেলে গোল করতে হবে। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে যে জায়গাগুলোতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেগুলো শুধরে নিতে না পারলে আবারও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। অভিষেকের হতাশা কাটিয়ে আজ বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মাঠে উত্তর দেবে হামজা চৌধুরী, সামিত সোম, শেখ মোরসালিনদের পারফরম্যান্স। আর বাংলাদেশের জন্য আজকের লক্ষ্য একটাই—তিন পয়েন্ট।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন