ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

লেবাননে প্রতি পাঁচ পরিবারের একটিতে শিশুরা না খেয়ে ঘুমায়: ইউনিসেফ

লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে শিশুদের জীবনে। ক্ষুধা, নিরাপদ পানির সংকট, শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং
  • আপলোড সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৩৪ সময়
  • আপডেট সময় : ৩ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৩৪ সময়
লেবাননে প্রতি পাঁচ পরিবারের একটিতে শিশুরা না খেয়ে ঘুমায়: ইউনিসেফ

লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে শিশুদের জীবনে। ক্ষুধা, নিরাপদ পানির সংকট, শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক চাপে দেশটির একটি বড় অংশের শিশু ও তরুণ এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতি পাঁচটি পরিবারের অন্তত একটিতে শিশুরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যায়। একই অনুপাতে পরিবার নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকটে রয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে লেবাননে অন্তত ৭ লাখ ৭০ হাজার শিশু ও তরুণ গভীর মানসিক চাপে ভুগছে। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, পড়াশোনায় বাধা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তাদের ওপর এই চাপ তৈরি হয়েছে।


লেবাননে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মার্কোলুইজি কোর্সি বলেছেন, দেশটির শিশু ও তরুণদের এমন একটি বোঝা বহন করতে হচ্ছে, যা কোনো শিশুরই বহন করার কথা নয়। জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই মানসিক চাপ শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনকে বহু বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ইউনিসেফের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আরও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনটি পরিবারের একটি জানিয়েছে, অর্থের অভাবে তারা সন্তানদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেনি। আর ১৪ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তাদের অন্তত একটি শিশু শিশুশ্রমে যুক্ত রয়েছে। এই হার ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।


সংঘাত পরিস্থিতি শিশুদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬১ শিশু নিহত এবং ১ হাজার ৫৬ জন আহত হয়েছে। অর্থাৎ গত ছয় মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাতজন শিশু হতাহত হয়েছে। আহত শিশুদের প্রায় ১২ শতাংশ স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেঁচে আছে। সংঘাতের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৪৩৬টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে প্রায় এক লাখ শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব হামলায় ৮৬ জন শিক্ষক নিহত বা আহত হয়েছেন।


যেসব এলাকায় এখনো স্কুল চালু রয়েছে, সেখানেও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আর্থিক সংকট ও মানসিক আঘাতের কারণে ৪৬ শতাংশ পরিবার শিক্ষার পেছনে খরচ কমিয়েছে। ১৭ শতাংশ পরিবার তাদের সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আর স্কুলে থাকা শিশুদের ২৯ শতাংশ মানসিক কষ্ট ও মনোযোগের সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ইউনিসেফ জানিয়েছে, অর্ধেকের বেশি পরিবার বলেছে, গত ছয় মাসে তাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। আর ৬৩ শতাংশ শিশু সবসময় আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।


ইউনিসেফের মতে, শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে লেবাননের এই সংকটের বিশালতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। জরুরি সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদক্ষেপ। তা না হলে একটি পুরো প্রজন্ম সংঘাত ও সংকটের ক্ষত নিয়ে বড় হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সমন্বয় দপ্তরও দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও সামরিক অভিযানের কথা জানিয়েছে।


চলতি বছরের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এখনো নিজেদের বাড়িঘরে ফিরতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের পাশাপাশি ক্ষুধা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকটও লেবাননের শিশুদের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। ইউনিসেফের সতর্কতা, দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংকটের প্রভাব শুধু বর্তমানেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনেও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ পদে চাকরি, আবেদন ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ পদে চাকরি, আবেদন ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত