একটি কনটেইনার বন্দরে এসেছিল ২০০৩ সালে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২৩ বছর। জাহাজ এসেছে, জাহাজ গেছে, বদলে গেছে বন্দরের অনেক কিছু—কিন্তু সেই কনটেইনারটি পড়ে ছিল সেখানেই। ভেতরে ছিল দাহ্য থিনার। দীর্ঘদিন পর অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেটি। শুধু এই একটি নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিকভর্তি মোট ৯টি কনটেইনার সরানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার ৩ অক্টোবর সকাল থেকে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের উদ্যোগে শুরু হয় এই বিশেষ কার্যক্রম। কনটেইনারগুলো কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে পরিবেশসম্মত ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংস করা হবে। ৯টি কনটেইনারে রয়েছে মোট প্রায় ১৫১ টন রাসায়নিক। এর মধ্যে আছে থিনার, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং মিথানল। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা এসব রাসায়নিক একদিকে যেমন বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছিল, অন্যদিকে কনটেইনারগুলো দখল করে রেখেছিল বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে পুরোনো চালানটি ছিল থিনারের। দুটি কনটেইনারে থাকা মোট ৩২ দশমিক ৩০ টন থিনারের একটি এসেছিল ২০০৩ সালে, আর অন্যটি আসে ২০১৬ সালে। প্রায় ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি কনটেইনার বন্দরে আসে ২০১৪ সালে। এ ছাড়া প্রায় ২৬ টন সালফিউরিক অ্যাসিডের একটি কনটেইনার আমদানি করা হয়েছিল ২০১৬ সালে। আর পাঁচটি কনটেইনারে থাকা প্রায় ৯৩ টন মিথানল আসে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে। অর্থাৎ এসব রাসায়নিকের কোনো কোনো চালান এক দশকের বেশি সময় ধরে বন্দরে পড়ে ছিল।
কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট কমাতে এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক সরিয়ে পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে কাস্টমসের ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে রাসায়নিকবাহী যানগুলো পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া এলাকায় ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব রাসায়নিক নিয়ম মেনে ধ্বংস করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপজ্জনক রাসায়নিক পর্যায়ক্রমে শনাক্ত করে সরিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে বন্দরের নিরাপত্তাঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন আটকে থাকা কনটেইনার সরিয়ে বন্দরের জায়গাও খালি হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন