কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন থামছেই না। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই রোগে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন রোহিঙ্গা, যাদের মধ্যে ছয়জনই শিশু। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোট ২ হাজার ৮৮২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন।
মৃতদের মধ্যে ছয়জন শিশু। বাকি চারজনের মধ্যে রয়েছেন বয়স্ক নারী ও পুরুষ। ক্যাম্পের ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিকে ডেঙ্গুর বিস্তারের অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, পুরো কক্সবাজার জেলাতেই ডেঙ্গুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বছরের প্রথম নয় মাসে জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮২ জনই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টাতেও কক্সবাজারে নতুন করে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। একই সময়ে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ক্যাম্পের বিপুল জনসংখ্যা ও ঘনবসতির কারণে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার এবং মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মশার বংশবিস্তার রোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে? আর নতুন করে প্রাণহানি ঠেকাতে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন