কৃষ্ণসাগরে একটি বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রুমানিয়ার জলসীমার বাইরে তুর্কি মালিকানাধীন ওই জাহাজে হামলায় অন্তত দুইজন নাবিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েকজন, যাদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাবিকও রয়েছেন। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এমভি রিয়াদ মামাদোভ’ নামের বাণিজ্যিক জাহাজটিতে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায়। হামলার ঘটনায় জাহাজে থাকা ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ভারতীয় ও আজারবাইজানের নাগরিকও ছিলেন।
রুমানিয়ায় ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা তিন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে একজন আহত হয়েছেন। তাকে রুমানিয়ার কনস্টান্টা কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রুমানিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত মনোজ মহাপাত্র আহতসহ অন্যান্য নাবিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। ঘটনার পর বেসামরিক জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, কৃষ্ণসাগর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত বেসামরিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে ভারত বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন। আরও একজনের পরিণতি এখনো নিশ্চিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব শুধু স্থলভাগেই নয়, কৃষ্ণসাগরের নৌপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপরও পড়ছে। বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
এদিকে গত রোববার ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে ভারতীয় মালিকানাধীন একটি ওষুধের গুদামে রাশিয়ার হামলায় ৫২ বছর বয়সী এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরপর বেসামরিক স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে চলাচলকারী জাহাজগুলো কতটা নিরাপদ—সেই উদ্বেগই এখন সামনে এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন