বিয়ের বাড়িতে তখন আনন্দের প্রস্তুতি, আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা আর মেহেদি অনুষ্ঠানের আয়োজন। পরদিনই ছিল বিয়ে। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক ঢুকে পড়ে বাড়িতে। এরপর ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে মুহূর্তেই আনন্দের পরিবেশ পরিণত হয় আতঙ্কে। হামলায় বর, তাঁর মা-বোনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত বর ও তাঁর ছোট বোনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আর এই ঘটনার কারণে শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে গেছে বিয়ের অনুষ্ঠান।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চেংখোলা গ্রামে। আহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামের মৃত জাফর আলম ওরফে কালুর ছেলে মোবারক হোসেনের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল শুক্রবার। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে মেহেদি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা যখন অনুষ্ঠান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বরের স্বজনদের অভিযোগ, গ্রামের সমাজ সরদার আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, গানবাজনা করার বিষয়টি তুলে ধরে অনুষ্ঠানের সাউন্ড সিস্টেম ও মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে বর মোবারক হোসেন, তাঁর মা ও বোনের ওপর হামলা চালানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও অতিথিরাও হামলায় আহত হন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
বরের চাচা ছৈয়দ কাসেমের অভিযোগ, আব্দুর রহিমের সঙ্গে ভেদু, ভুলু সওদাগর, জয়নাল ও নুরুল আলমসহ স্থানীয় আরও অনেকে ওই হামলায় অংশ নেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে বর মোবারক হোসেন ও তাঁর ছোট বোন শামসুন্নাহারের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তা আর সম্ভব হয়নি। যে বাড়িতে বিয়েকে ঘিরে আনন্দ-উৎসব চলার কথা ছিল, সেখানে এখন বিরাজ করছে উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা। ঘটনার বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, গানবাজনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন