ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
মুশফিকের ফিফটিতে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি ভারত কখনো মোদির মতো এমন কাপুরুষ দেখেনি: মুক্তির পর অভিজিৎ দিপকে ‘হু ইজ হাদি?’: নুরের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা রফিকুল ইসলাম মাদানির শপথের পর এক টাকাও দুর্নীতি করিনি: আমির হামজা নভেম্বরেই রোনালদোকে দলে ফেরাতে চান পর্তুগালের ফুটবলপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের আশ্বাস ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’: সাক্ষীর উদ্দেশ্যে পলক ছুটি ঘোষণা করে নতুন জাতীয় দিবসের পরিপত্র জারি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, চেন্নাইয়ে রোড শো করছেন মোদি

‘ভারতে কালো জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিজেপি’

দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা আন্দোলনকারীদের আটক ঘিরে এবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত! রাজধানীর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে আসা
  • আপলোড সময় : ১০ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১০ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৪৫ সময়
‘ভারতে কালো জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিজেপি’

দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা আন্দোলনকারীদের আটক ঘিরে এবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত! রাজধানীর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে আসা মানুষদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। দলটির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অভিযোগ, ভারতে এখন গণতন্ত্রের বদলে একনায়কতন্ত্র চলছে। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। কিন্তু কী এমন ঘটেছে, যার জেরে দিল্লিজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা?


ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ককোরোচ জনতা পার্টি। দলটির উদ্যোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের সমালোচনা করেছে আম আদমি পার্টি।


দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে ভারতে একনায়কতান্ত্রিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমনকি বিমান থেকে আসা আন্দোলনকারীদেরও সরাসরি গ্রেপ্তার করা সরকারের ভীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।


কেজরিওয়াল আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার পর সেই অনিয়ম আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন। এ সময় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদিরও পদত্যাগ দাবি করেন। তবে নির্বাচনে কারচুপি ও জালিয়াতির এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


এদিকে আম আদমি পার্টির বিধায়ক গোপাল রাই এবং দিল্লি রাজ্য সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে দেশজুড়ে একধরনের ‘কালো জরুরি অবস্থা’ তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য দিল্লিকে কার্যত সেনানিবাসের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে তরুণদের আন্দোলন থামানো সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।


অন্যদিকে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং শহরজুড়ে ২৩ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।


এই আন্দোলনের মূল দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন বিজেপি সুবিধা পাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি আগে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, আন্দোলনকারীদের আটক এবং বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা ভারতের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় কি না এবং নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকার অভিযোগগুলোর জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার