ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
নজরুল বর্ষে দেশের সব মাদ্রাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার নির্দেশ সৌদি আরবে হামলা মানে পাকিস্তানে হামলা: পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৩৪৯০ যাত্রী কান্নারত শিশুকে নিয়ে পালানোর সময় সচিবালয় মেট্রো স্টেশন থেকে ১ জন আটক প্রকাশ্যে ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হয়রানি ও হেনস্তায় তীব্র ক্ষোভ সাবেক ১২ উপদেষ্টার সিনেমা সমালোচক রাকিবের চিত্রনাট্যে নির্মিত হবে শাকিবের ‘মহব্বত’ চন্দ্রালোকিত রাত ও নির্বাচনের দিন-তারিখ ধানমন্ডিতে পুলিশের সামনেই এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস, ভিডিও ভাইরাল ১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর

মেরিটোক্রেসির জনপ্রশাসন কতদূর?

দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সংস্কারের গতি এখনো ধীর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন
  • আপলোড সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৫ সময়
মেরিটোক্রেসির জনপ্রশাসন কতদূর?

দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে সংস্কারের গতি এখনো ধীর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন দুই শতাধিক সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু সেসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে, ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান বিএনপি সরকারও নতুন করে সংস্কার কমিশন গঠনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ সামনে আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কবে বদলাবে দেশের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামো?


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রের অন্যান্য খাতের মতো জনপ্রশাসনেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করে। চার মাসের মধ্যে কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করতে দুই শতাধিক সুপারিশ করা হয়।


কমিশনের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা কমানো, সমজাতীয় মন্ত্রণালয়গুলোকে পাঁচটি গুচ্ছে ভাগ করা, নতুন বিভাগ গঠন, দেশকে চারটি প্রদেশে বিভক্ত করা এবং রাজধানীর জন্য পৃথক সরকারব্যবস্থা চালু করা। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদবি পরিবর্তন, সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠন, বাধ্যতামূলক অবসর ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি প্রথা বাতিল, সচিব নিয়োগে মন্ত্রিসভা কমিটির ভূমিকা এবং ন্যায়পাল নিয়োগের মতো প্রস্তাবও ছিল।


বাস্তবায়নের সুবিধার্থে সুপারিশগুলোকে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল ছয় মাস, আর মধ্যমেয়াদি প্রস্তাবের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল এক বছর। কমিশনের জরিপেও জনপ্রশাসনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অসন্তোষের চিত্র উঠে আসে। জরিপে ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দেন এবং ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, দেশের জনপ্রশাসন জনবান্ধব নয়।


তবে এত সুপারিশের পরও প্রশাসনের কাঠামো, নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা সেবা প্রদানের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দলীয়করণ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতির মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।


জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের একাংশের অভিযোগ, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক সময় মেধা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এর ফলে প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বিভিন্ন মহলের মতামত এক নয়; সংস্কারের পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত।


বর্তমান বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার করেছে। দলটির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে সততা, মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ার সংস্কার এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্স চালুর কথাও বলা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন সংস্কারে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে নতুন কমিশন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।


অন্যদিকে, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশনের প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের উচিত নতুন কমিশন গঠন করে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ তৈরি করা, যাতে সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক, দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা যায়।


সব মিলিয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে প্রতিশ্রুতি ও সুপারিশ থাকলেও বাস্তবায়নের প্রশ্নটি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। নতুন কমিশন কবে গঠিত হবে, আগের সুপারিশগুলোর কোনগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং প্রশাসনে দলীয় প্রভাব কমিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা যাবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার