ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের দিন শুধু ভোট গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত, ব্যালট পেপার সিলগালা এবং উপজেলা সদরে নিরাপদে ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও থাকে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাতের অন্ধকার ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। তাই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে চাঁদের আলোকে বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব সামনে এসেছে।
অতীতে বাংলা পঞ্জিকা ও চাঁদের হিসাব দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। ধর্মীয় উৎসব, কৃষিকাজ, মাছ ধরার সময় এবং বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনের দিনক্ষণ নির্ধারণে চাঁদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। আধুনিক জীবনযাত্রায় এসব হিসাবের ব্যবহার কমলেও উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার হিসাব কিংবা রাতের চলাচলে চাঁদের আলো এখনো তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের সময়ও চাঁদের আলো বিবেচনায় নেওয়ার পক্ষে যুক্তি রয়েছে। দেশে ৪৬ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের কাজে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট পেপার বাছাই, ভোট গণনা, ফলাফল প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। ভোটার বেশি হলে কিংবা কোনো জটিলতা দেখা দিলে এই সময় আরও বাড়তে পারে।
একটি কেন্দ্রে গড়ে দেড় হাজার ভোট পড়লে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য মোট চার হাজার পাঁচশ ব্যালট পেপার হিসাব করতে হতে পারে। ব্যালট বাছাই, গণনা এবং প্রয়োজনীয় ফরম পূরণের কাজ তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে গেলে ভুলের আশঙ্কা বাড়ে। তাই ফলাফল প্রস্তুতের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিরাপদে ফেরার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাতের অন্ধকারে উপজেলা সদরে ফেরার পথে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কোথাও ফলাফল তৈরিতে দেরি হলে অন্য কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের পর বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। চাঁদের আলো থাকলে চলাচল কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আলোকসজ্জা এবং নিরাপদ যাতায়াতব্যবস্থাও জরুরি।
নির্বাচন কমিশন ১২ অক্টোবর ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ২১ জানুয়ারির পর পূর্ণিমার কাছাকাছি সময়ে রাতের আলো পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ৪ ফেব্রুয়ারি, ২৯ এপ্রিল এবং ২৭ মে ভোটের পর রাতের আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকতে পারে। ১৩ মে রাতের প্রথম ভাগে কিছুটা চাঁদের আলো পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ভোটের তারিখ নির্ধারণের সময় চাঁদের অবস্থান, কেন্দ্রের ভৌগোলিক অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা যেন ফলাফল প্রস্তুত শেষে নিরাপদে উপজেলা সদরে এবং নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সবশেষে প্রত্যাশা—ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক। ভোটারদের পাশাপাশি ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে চাঁদের আলোকে বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাবটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা মূল্যায়ন করে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন