সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা কি এবার আগের চেয়ে ভালো ও পুষ্টিকর খাবার পাবেন? দীর্ঘদিন ধরে সীমিত খাবারের বরাদ্দ নিয়ে যে ভোগান্তির কথা উঠে আসছিল, তা কমাতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রত্যেক রোগীর দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী চিকিৎসক এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
রোববার, ১৮ অক্টোবর রাতে বাগেরহাটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। চিকিৎসক এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য বর্তমানে জনপ্রতি খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা। কিন্তু ভ্যাট ও কর বাদ দেওয়ার পর কার্যকর বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৪৯ থেকে ১৫০ টাকায়। বর্তমান বাজারদরে এই অর্থ দিয়ে একজন রোগীর তিন বেলার পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিকল্পনা শুধু রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মূলত রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন করে রোগ প্রতিরোধ এবং আগেভাগে রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক লাখ স্বাস্থ্য ও উন্নয়নকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরই ৪৩ থেকে ৪৫ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীরা যুক্ত হলে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একজন স্বাস্থ্যকর্মী বছরে অন্তত তিন থেকে চারবার দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে যাবেন। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সম্ভাব্য রোগের লক্ষণ শনাক্ত করার চেষ্টা করবেন তাঁরা। এর ফলে রোগ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে আগাম শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক এই বিশেষ সহকারী। তাঁর বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই শুধু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়ালেই হবে না, বরং রোগ প্রতিরোধ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।
এদিকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট নিরসনেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুল আলম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দারসহ চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ঘোষিত বরাদ্দ বৃদ্ধি কবে থেকে কার্যকর হবে এবং নতুন নিয়োগ কার্যক্রম কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে এসব পরিকল্পনার বাস্তব সুফল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন