সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন ঘটতে না পারে, সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী—এই তিন জেলার সীমান্তবর্তী ১৩৫টি পূজামণ্ডপে চলছে নিবিড় নজরদারি। পাশাপাশি শহরাঞ্চলের আরও ১৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে ২৩ প্লাটুন সদস্য।
রোববার, ১৮ অক্টোবর বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় দুর্গাপূজার মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঠাকুরগাঁও সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা দেশের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোর একটি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্গাপূজা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনও তুলে ধরে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পূজা উপলক্ষে সর্বাত্মক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিজিবি।
সেক্টর কমান্ডার জানান, সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ ক্ষেত্রে আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলার বিজিবি ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এ জন্য রয়েছে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও। কর্নেল সুরুজ মিয়া জানান, মনিটরিং সেলের মাধ্যমে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমেও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও নিরাপত্তার ব্যত্যয় ঘটলে বা সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে তা দ্রুত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানোর বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এই বিজিবি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কোনো ধরনের গুজব বা ভুল তথ্যকে কেন্দ্র করে যেন কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রচারের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কেউ প্রকৃত অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সীমান্তের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কর্নেল সুরুজ মিয়া বলেন, সীমান্ত সব সময়ই বিজিবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অপরাধীরা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে পারে, আবার অন্য দেশের অপরাধীরাও সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই অপরাধ ও নাশকতা প্রতিরোধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও জানান, সীমান্তের কিছু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটে সীমাবদ্ধতা থাকলেও দুর্গম এলাকাতেও বিজিবির সীমান্ত চৌকি রয়েছে। সেখান থেকেই সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্দিষ্ট কোনো এলাকাকে আলাদাভাবে ঝুঁকিপূর্ণ না ধরে পুরো সীমান্ত এলাকাতেই সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। এর আগে কালীতলা এলাকার তিনটি মন্দির পরিদর্শন করেন কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদসহ বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের আনন্দ যেন নিরাপত্তাহীনতা বা গুজবের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যেই তিন জেলার সীমান্তবর্তী ও শহরাঞ্চলের পূজামণ্ডপগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন