মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উধাও হয়ে গেল গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের ৪০০টি সিলিন্ডার! পথে ট্রাকের গতিরোধ করে চালক ও তাঁর সহযোগীদের ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর দুটি মিনিট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সব সিলিন্ডার। লুট করা হয় নগদ টাকা ও মুঠোফোনও। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৮টি গ্যাস সিলিন্ডার এবং জব্দ করা হয়েছে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মিনিট্রাক।
ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায়। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ট্রাকচালক মহিদুল ইসলাম, তাঁর সহযোগী সাকিব হোসেন এবং বগুড়া সদর উপজেলার গোলাম মোস্তফা। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার চকনুর গ্রামের একটি ফিলিং স্টেশন থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ৪০০টি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় একটি ট্রাক। পথে রৌহা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ১৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ট্রাকটির গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, দুর্বৃত্তরা ট্রাকচালক আসিফ ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর দলের দুজন সদস্য চালকের পাশের আসনে বসে ট্রাকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরে ভোর চারটার দিকে ষোলমাইল ফায়ার সার্ভিস এলাকার একটি কবরস্থানের পাশের নির্জন রাস্তায় ট্রাকটি থামানো হয়।
সেখানে দুটি মিনিট্রাকে ৪০০টি গ্যাস সিলিন্ডার তুলে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শুধু সিলিন্ডারই নয়, এ সময় ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীর কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৮৬ হাজার টাকাও লুট করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শফিউল্লাহ রায়গঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া সিলিন্ডারের মধ্যে ৪৮টি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে বাকি সিলিন্ডারগুলোর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে, এতগুলো গ্যাস সিলিন্ডার লুটের ঘটনায় আর কারা জড়িত এবং বাকি সিলিন্ডারগুলো কোথায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন