ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে ঘটনাটির পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মারামারিতে জড়ানো এই দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী এবং দুজনই একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত দুজন হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি মেয়ে রয়েছে, যিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকছেন। তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। তবে এখনো তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। দুজনই ২০১১ সালের দিকে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কখনো কখনো সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে এমন বিরোধের জের ধরে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই তাঁদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করান। এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাঁদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আফজাল হোসেন আরও বলেন, দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের বক্তব্য জানার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সম্পর্কে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, মারামারির ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের হলেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার, ১৪ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের এমন আচরণ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত, তেমনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন