জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, কৃষি উৎপাদনের জন্য সারের চাহিদা পূরণ এবং বাজারে চিনির সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় পরিমাণে আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজার থেকে ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার এবং ১০ হাজার টন চিনি কেনা হবে।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশকে ৯ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সরকারি পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনা হবে। তবে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি কার্গোর সংখ্যা কমানো বা বাড়ানো যাবে।
এদিকে, দেশের কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে ২ লাখ ৩৭ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে এসব সার আমদানি করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও কানাডা থেকে সার আনা হবে। মোট আমদানির মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার টন ইউরিয়া, ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি। বাকি সার হবে মিউরিয়েট অব পটাশ বা এমওপি।
অন্যদিকে, বাজারে চিনির সরবরাহ নিশ্চিত করতে মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১০ হাজার টন চিনি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। দুটি চালানে এই চিনি কিনতে ব্যয় হবে ১০০ কোটি টাকার বেশি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক আমদানি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে সরকার। তবে এসব আমদানির প্রভাব বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতিতে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে পণ্য সরবরাহের সময়, ব্যয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন