সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে দুই দফায় মারধর করা হয়েছে। প্রথম দফা মারধরের পর তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও দলবদ্ধভাবে মারধরের শিকার হন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমান সানার ছেলে।
দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানান, মঙ্গলবার সুবর্ণাবাদ এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে এক যুবকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাই আবদুল জলিল বলেন, শামীম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কয়েক বছর আগে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনার পর থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারান এবং তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। সোমবার রাতে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, “স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুরে অংশ নেন। পরে আমার ভাই আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে সবুর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে দুই দফায় মারধর করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়।” স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকালে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হলে দুপুরে উপজেলার সখীপুর এলাকায় কয়েকজন শামীমকে মারধর করেন। এরপর তিনি নিজ বাড়িতে বিষপান করেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে ‘তৌহিদি মুসলিম জনতা’ স্লোগান দিয়ে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন শামীমকে মারধর করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, নিহতের স্বজনরা মামলা করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আইন ও বিধি অনুযায়ী থানা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শামীম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শামীমের পরিবারের বক্তব্যের বিষয়টি শুনেছি। তবে তার মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি যাচাই করা হয়নি।” নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ওসি জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন