জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে। নতুন করে আরও ২৬টি মরদেহ উদ্ধারের পর এই সংখ্যা বেড়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার লেক কারিবায় প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে সরকারি পরিচালিত একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যায়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল।
নৌকাটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন নৌকাকর্মী ছিলেন। এর বাইরে কতজন শিশু ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে নৌকাটিতে প্রায় ১৫৩ জন ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রবল বাতাস ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী থাকায় হতাহতের সংখ্যা এতটা ভয়াবহ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনের বয়স ছিল ১০ বছর বা তার কম।
দুর্ঘটনার পর থেকেই লেক কারিবার বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ, সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা। পানির গভীরতা ও বিশাল জলরাশির কারণে মরদেহ উদ্ধারে ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে স্বজনদের ভিড় বাড়ছে স্থানীয় হাসপাতালে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি। পরিচয় শনাক্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে।
জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লেক কারিবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন