ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

জেলেনস্কি ‘এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না’: ট্রাম্প

চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবারও শান্তিচুক্তি ছাড়াই দীর্ঘায়িত হবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য
  • আপলোড সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৫ সময়
জেলেনস্কি ‘এই যুদ্ধ শেষ করতে চান না’: ট্রাম্প

চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কি এবারও শান্তিচুক্তি ছাড়াই দীর্ঘায়িত হবে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


সোমবার, ১৯ অক্টোবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে দিতে পারে।


ট্রাম্প ইউরোপের আর্থিক সহায়তা নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, ইউরোপ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থের কারণে জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আগ্রহী নন। তবে এটি ট্রাম্পের নিজস্ব অভিযোগ; জেলেনস্কির যুদ্ধ শেষ করার ইচ্ছা সম্পর্কে এই বক্তব্যের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, চলমান আলোচনার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রাখতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।


তবে যুদ্ধের মাঠে পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলারও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এসব হামলার প্রভাব শুধু রাশিয়ার জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও পরিবহন খাতের জ্বালানি ব্যয়ের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।


ট্রাম্প আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিষয়ে রাশিয়ার ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে এবং তিনি এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে চান। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক হিসাবও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে রাশিয়ার হামলার জবাবে রুশ তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা যৌক্তিক। জেলেনস্কি আরও সতর্ক করেছেন, মস্কোর ওপর চাপ কমিয়ে দিলে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে।


এখানেই শান্তি আলোচনার সামনে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে। একদিকে ট্রাম্প আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ স্থগিত রাখার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইউক্রেন মনে করছে, রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখা জরুরি। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা কতটা এগোবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হামলা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ট্রাম্পের দাবি ও জেলেনস্কির পাল্টা অবস্থানের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল

'ইন্ডিয়া' জোটের রাজপথের আন্দোলনে থালাপতি বিজয়ের দল