ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কে কোন ধর্মের অনুসারী, তা নয়—দেশ ও এলাকার উন্নয়নে কে কতটা কাজ করছেন, জনগণ শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই মূল্যায়ন করবেন। এমন মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। দুর্গাপূজার এক অনুষ্ঠানে তাঁর এই বক্তব্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ও।
রোববার, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর কড়াইল এলাকায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের আবাসিক এলাকায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিটিসিএল সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ। মন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। যারা দেশের উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, জনগণ তাঁদের সমর্থন দেবেন। রাজনীতিবিদদের ভালো কাজের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি তাঁদের জনসেবায় আরও উৎসাহিত করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে রয়েছেন এবং তাঁদের কল্যাণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পূজা উদযাপনকারীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নমূলক দাবির বিষয় তুলে ধরেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং আবাসনসহ বিভিন্ন দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন ফকির মাহবুব আনাম। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন তিনি। অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল শাড়ি বিতরণ। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া শাড়ি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিতরণ করেন মন্ত্রী।
বিটিসিএল সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসলাম হোসেন। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ ছাড়া বিটিসিএল ও এর অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ধর্মীয় উৎসবের এই আয়োজনে নাগরিকদের সমান অধিকার, এলাকার উন্নয়ন এবং জনসেবার গুরুত্ব উঠে এসেছে। এখন স্থানীয় জনগণের উত্থাপিত রাস্তাঘাট, সুপেয় পানি ও আবাসনসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই থাকবে সংশ্লিষ্টদের নজর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন