ঢাকা | |

অসুস্থ বাবার খোঁজ-খবর নেন না আলোচিত বক্তা তাশরীফ

‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন পাশে ছিলাম আমি। আজ তোমার সব হয়েছে, অথচ আমিই হয়ে গেলাম পর!’—চোখের
  • আপলোড সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়
  • আপডেট সময় : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫২ সময়
অসুস্থ বাবার খোঁজ-খবর নেন না আলোচিত বক্তা তাশরীফ

‘যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন পাশে ছিলাম আমি। আজ তোমার সব হয়েছে, অথচ আমিই হয়ে গেলাম পর!’—চোখের পানি মুছতে মুছতে নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে এমনই হৃদয়বিদারক অভিযোগ তুলেছেন এক অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা। একসময় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য চেয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন, নিজের সীমিত সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে তাকে পড়াশোনা করিয়ে আলেম বানিয়েছেন। অথচ সেই ছেলেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাবার খোঁজখবর রাখেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।


আলোচিত ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। সোমবার, ২৬ অক্টোবর রাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি। বৃদ্ধ পিতার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি অসুস্থ শরীরে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য ছেলের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েও বারবার হতাশ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলে বিভিন্ন জায়গায় অর্থ ব্যয় করলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য টাকা দিতে চান না এবং নিয়মিত খোঁজখবরও রাখেন না।


ছেলের শৈশবের কষ্টের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে হেদায়েতুল্লাহ জানান, সাধারণ একটি মসজিদে ইমামতি করে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চালানোই ছিল কঠিন। এর মধ্যেই ছোটবেলায় গুরুতর মূত্রনালির সমস্যায় আক্রান্ত হন তাশরীফ। ছেলের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়েছিল তাঁকে। ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে বছরের পর বছর ছোটাছুটি করে বহু কষ্টে ছেলেকে সুস্থ করে তোলেন। পরে তাঁকে হাফেজ ও মাওলানা হিসেবে গড়ে তুলতেও নানা ত্যাগ স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি।


কিন্তু আজ নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনেও ছেলের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাঁর। হেদায়েতুল্লাহর দাবি, অসুস্থ অবস্থায় আর্থিক সাহায্য চাইলে ছেলে জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে তাঁকে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি; নিয়মিত চিকিৎসার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাঁর।


সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হিসেবে তিনি তুলে ধরেন ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা। তাঁর অভিযোগ, তাশরীফ একসময় তাঁর কাছে এসে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা জানান, দোয়া চান এবং অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমাও চান। এরপর প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা হাতখরচ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাবাকে মসজিদের ইমামতির চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন। ছেলের কথায় বিশ্বাস রেখে চাকরি ছাড়লেও পরে কোনো অর্থ পাননি বলে দাবি করেন হেদায়েতুল্লাহ। এমনকি ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। বারবার ফোন করেও সাড়া পান না। ছেলের ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে জানান তিনি।


গত কোরবানির ঈদের একটি ঘটনাও তুলে ধরেন এই বৃদ্ধ পিতা। তাঁর দাবি, এলাকায় কোরবানি দেওয়ার সময় ছেলের কাছে পরিবারের জন্য সামান্য মাংস চেয়েছিলেন। কিন্তু বন্ধুদের মাংস ও অর্থ দেওয়ার অজুহাতে তাঁদের কিছুই দেওয়া হয়নি। তবে বাবার পক্ষ থেকে তোলা এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


এদিকে, সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার ছয় বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও চুমু দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক শিক্ষকের পক্ষে মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তাশরীফ। শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একদিকে অসুস্থ বাবার অবহেলার অভিযোগ, অন্যদিকে সাম্প্রতিক বিতর্ক—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই ইসলামী বক্তা। তবে পারিবারিক অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু

শাহজালাল (রহ.) মাজারে ৫ম বারের মতো দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা শুরু