শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান—কিন্তু সেই বিক্ষোভ থেকেই ১৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে এই বিক্ষোভের পর প্রশ্ন উঠেছে, কোনো সংগঠনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করলেই কি সেটিকে সমর্থন করা হিসেবে গণ্য করা হবে?
গত বছরের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া কিংবা প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আইন ভঙ্গের দায়ে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ নামের একটি সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায়, ‘আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’—এমন লেখা প্ল্যাকার্ড। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁরা মূলত নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ জানাতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জন ম্যাকডোনেল। তাঁর মতে, কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সেটিকে ওই সংগঠনের প্রতি সমর্থন হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেছেন, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি সরকারের ভুল ছিল। আয়োজক সংগঠনটির দাবি, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই আইন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংকুচিত করছে।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রচার বিভাগের প্রধান ফেলিক্স জ্যাকেন্স বলেছেন, প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার কারণে প্রবীণ থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। শুধু লন্ডনেই নয়, স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় মার্কিন কনস্যুলেটের সামনেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে একই ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও লন্ডনের মতো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির কথা রয়েছে। এর আগে নিম্ন আদালত নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বললেও আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। এখন সর্বোচ্চ আদালতের শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন আন্দোলনকারীরা। সব মিলিয়ে, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অধিকার নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন