সরকারের আট মাসের শাসনেই দেশে দ্রব্যমূল্য, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বেড়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এখন শুধু রাজনৈতিক দলের নাম বদলেছে, কিন্তু চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। একই সঙ্গে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।
শনিবার রাতে যশোরের মুড়ালী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব এবং সার, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যেসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়েছিল, এখন ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মী সেই একই পথে হাঁটছেন। শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে, আচরণে পরিবর্তন আসেনি। বিএনপির সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ও জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বিএনপিকে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং গণভোটে সমর্থন জানানোর পর এখন সরকার কেন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নিজেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের পর এখন সেই গণরায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখানো হচ্ছে। গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন, জনগণের কাছ থেকে নেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হলে বিরোধী দল আন্দোলনে নামবে না কেন? বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলকে সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা বলার অভিযোগ করা হচ্ছে। অথচ গত সাত-আট মাসে সরকারের কর্মকাণ্ড এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ দলীয় ঐক্য এখনো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল আন্দোলনের পথেই রয়েছে। জামায়াতের আমিরসহ জোটের শীর্ষ নেতারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, জনমত তৈরি করে জনগণকে বোঝাতে হবে যে বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সরকারের কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্ড বিতরণ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণের হাতে রয়েছে আরেকটি কার্ড, সেটি হলো লাল কার্ড। প্রয়োজন হলে জনগণ সরকারকে সেই লাল কার্ড দেখাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, এখনো ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। আগামী ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাতের পথে না গিয়ে সংসদের ভেতরেই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। সব মিলিয়ে, গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে সরকারের আট মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী জোটের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে আগামী সংসদ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন