একজন পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারাল যাত্রীবাহী বাস। এরপর সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে যায় বাসটি। বাসের ভেতরে তখন ছিলেন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে অংশ নেওয়া অর্ধশতাধিক যাত্রী। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ পথচারী, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার কুমিরা বটতলা এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা।
শনিবার ৩১ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে খুলনায় লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করে সাতক্ষীরায় ফিরছিল বাসটি। কুমিরা বটতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ এক ব্যক্তি রাস্তা পার হতে সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন বাসচালক। কিন্তু এ সময় বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন পথচারী আব্দুল খালেক। তাঁর বয়স ৭০ বছর। তিনি তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে বাসটি পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। আহতদের অধিকাংশই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং স্থানীয় লোকজন। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। বাসটি পুকুর থেকে তোলার পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকি করেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মকুলসহ স্থানীয় নেতারা। তাঁরা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক জানান, বাসটিতে লংমার্চে অংশ নেওয়া আনুমানিক ৫০ থেকে ৬২ জন যাত্রী ছিলেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে বাসের নিচে কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, সেটি বাসটি পুকুর থেকে উদ্ধারের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন পথচারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন। একজন পথচারীকে বাঁচানোর চেষ্টা থেকে শুরু হওয়া এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখন উদ্ধার অভিযান শেষ করে বাসের ভেতরে বা নিচে আর কেউ আটকে আছেন কি না, সেটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন