মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর একের পর এক বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন বেসামরিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছে এক নবজাতকও। শুধু তাই নয়, হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩২ জন। আবাসিক এলাকা, একটি প্রসূতি হাসপাতাল এবং শিশুদের একটি কর্মসূচিতে বোমা হামলার ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে দেশটির গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাখাইন রাজ্যের চারটি জনপদে সামরিক জান্তা বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়। কিয়াক্তাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও এবং কিয়াকফ্যু এলাকার ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক স্থাপনা ও একটি প্রসূতি হাসপাতালে চালানো এসব হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১২ জন। আহত হন বহু মানুষ। এর আগের দিন শনিবার কারেনি বা কায়াহ রাজ্যের পূর্ব লইকাও জনপদের একটি বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সামরিক বাহিনী। ছুটির দিনে শিশুদের একটি পুষ্টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিল তারা। ঠিক সেই সময় যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হলে তিন শিশু নিহত হয়। আহত হয় আরও আটজন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। দীর্ঘ এই সংঘাতে বেসামরিক মানুষের জীবন ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত ও সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দু। এই রাজ্যেই রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের বসবাস ছিল। সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দমন-পীড়ন এবং সহিংসতার কারণে গত কয়েক বছরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন করে এক নবজাতক ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন