যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরকে বড় ধাক্কা দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিলেন অসফ।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর মধ্যে জর্জিয়ার এই আসনটি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই নির্বাচনের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচনে জন অসফের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারের সময় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শে বিশ্বাসীদের সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
অন্যদিকে, অসফ তাঁর প্রচারে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। বিপরীতে কলিন্স প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে জন অসফ পেয়েছিলেন ৬৩ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কলিন্স পেয়েছিলেন ২৯ শতাংশ ভোট।
২০২১ সাল থেকে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জন অসফ। তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম ইহুদি সিনেটর। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় জয় পেয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে এই অঙ্গরাজ্যে জয় পান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে জর্জিয়ার সিনেট আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল। এবার অসফের পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় জর্জিয়ার আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ার্নকের সঙ্গে আবারও সিনেটে কাজ করার সুযোগ তৈরি হলো তাঁর।
এদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও জন অসফের নাম আলোচনায় রয়েছে। ফলে এবারের জয় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন