ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করেছে সিরিয়া। দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সৌদি আরব সফরে গিয়ে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের ওই সাক্ষাতের সময়ই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় বৈঠক। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছিল সিরিয়া।
এ বিষয়ে সে সময় এক সিরীয় কূটনীতিক জানিয়েছিলেন, সামরিক সহযোগিতা কিংবা দক্ষতা বিনিময়ের যেকোনো অনুরোধ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পথেই বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনাকারী দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কাঠামো অনুসরণ করা হবে। এদিকে, আল-শারার সৌদি সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি আরও কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রিয়াদ। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব।
সিরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নয়ন ও জনসেবামূলক খাতের অগ্রগতিতে সহায়তার জন্য সৌদি উন্নয়ন তহবিলের সঙ্গে ছয়টি চুক্তি হয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় সিরিয়াকে ৪০ কোটি ৩ লাখ ডলারের বেশি রেয়াতি উন্নয়ন ঋণ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করছে সৌদি আরব।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল ও রয়টার্স।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন