দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। ঈদযাত্রায় সোমবার (২৬ জুন) ভোর থেকেই ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বিভিন্ন জেলার ঘরমুখী মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও স্বাভাবিক রয়েছে সিরাজগঞ্জের যানজট আতংকে থাকা ৪৫ কিলোমিটার মহাসড়ক। কোথাও কোনও ধীরগতি বা যানজট নেই।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের কড্ডার মোড়, নলকা সেতু ও উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল গোল-চত্বরে ঘরে দেখা যায়, সকাল থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকলেও যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই অনেকটা স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছে উত্তরবঙ্গগামী ঘরমুখো মানুষেরা। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও খোলা ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছে মানুষ। এছাড়া মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে করেও অনেকে বাড়ি ফিরছে। এতে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখি লেনে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ দেখা দিয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের ২২ জেলার যানবাহনের চাপ থাকলেও যানজট নেই। স্বাভাবিক গতীতে এ পথে যান চলাচল করছে।
ঢাকা থেকে রংপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার সাগর হোসেন বলেন, মহাসড়কের এখনো কোথাও কোনও যানজট বা ধীরগতি পাইনি। তবে সেতু পূর্ব পাড়ে টোল আদায়ের কারনে কিছু গাড়ি টোল প্লাজার সামনে কিছুটা ধীরগতিতে পড়ছে। পুরো ঈদযাত্রাটা এভাবে চললে যাত্রীদের ও আমাদের পরিবহন শ্রমিকদের যাতায়াতটা নির্বিঘ্নে হবে।
হাটিকুরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল কবীর বলেন, মহাসড়কে গাড়ির চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছু গাড়ি বেশি চলাচল করছে। কিন্তু কোথাও ধীরগতি বা যানজটের মতো কোনও অবস্থা তৈরি হয়নি। এছাড়াও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা তৎপর রয়েছি।
সিরাজগঞ্জের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান সালেক বলেন, ঈদের সময় ঘনিয়ে আসায় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে মহাসড়কে চাপ থাকলেও কোনও যানজট বা ধীরগতি নেই। আশা করছি উত্তরবঙ্গের ঘরে ফেরা মানুষের এবারের ঈদযাত্রাও নির্বিঘ্নে হবে। এ ছাড়াও যানবাহন ও ঘরে ফেরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে ও সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট রয়েছি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে টোল প্লাজার কারনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে চেষ্টা করছি টোল প্লাজা ও পূর্ব পাড়ের ট্রাফিক বিভাগের সাথে কথা বলে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য চেষ্টা চলছে। ঈদযাত্রায় যেন অতিরিক্ত চাপ একবারে এসে সেতু পশ্চিম পাড়ে সৃষ্টি করতে না পারে বলে তিনি জানান।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল জানান, ঈদযাত্রায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণস্থানে প্রায় ১ হাজার জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। এবার যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতেই মানুষ বাড়িতে ফিরতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল গোল-চত্বর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের ২২ জেলার মানুষ চলাচল করে। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৭-১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের সময় এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৫-৪৫ হাজারে। এই সময়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতি বছরই যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে গত ঈদুল ফিতরে তেমন কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি এই মহাসড়কে। এই ভোগান্তি এড়াতে এবার ঈদযাত্রায় নলকা আন্ডারপাস ও কড্ডা ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছে।
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন