দেশে অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংকের সংখ্যা ১ হাজার ২৭টি৷ আর লাইসেন্স আছে ১৫ হাজার ২৩৩টি প্রতিষ্ঠানের৷
হাইকোর্টে দাখিল করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (স্বাস্থ্যসেবা) পক্ষে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যদি জানে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, তাহলে সেগুলো বন্ধ করতে বাধা কোথায়? কেন এতদিনেও এগুলো বন্ধ করা হয়নি৷ উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর এবার কি এগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে এমনই প্রশ্ন এখন সবার কাছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংকের যে সংখ্যা বলেছে বাস্তব চিত্র তার চেয়ে অনেক বেশি৷ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, "স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উচ্চ আদালতে যে তালিকা দিয়েছে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে৷ জনবল বা তথ্য ঘাটতির কারণে হয়ত তাদের রিপোর্টে বাস্তব চিত্রটা উঠে আসেনি৷ তারপরও সংখ্যাটা যাই হোক না কেন, অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা বা স্বাস্থ্যের একটি প্রতিষ্ঠানও চলতে পারে না৷ দ্রুত এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এখানে রাজনৈতিক বা অর্থের যতই দাপট থাকুক না কেন এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া উচিৎ নয়৷”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, "আমরা উচ্চ আদালতে যে তালিকা দিয়েছি, সেটা কম বেশি হতে পারে৷ আমরা সবগুলোর জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে অবৈধ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্ল্যাড ব্যাংকের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম৷ তারা অনুসন্ধান করে যে তালিকাটা দিয়েছে, আমরা সেটাই উচ্চ আদালতে জমা দিয়েছি৷ তালিকা হাতে পাওয়ার পর আমরা সবগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি৷ ইতিমধ্যে অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে৷ এ ব্যাপারে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না৷”
কিছুদিন পরপর অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর৷ এতে কিছু হাসপাতাল বন্ধও হয়৷ কিছুদিন পর আবারও চালু হয়৷ প্রথম দফায় সাড়ে ১৬শ' অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে৷ আর দ্বিতীয় দফায় বন্ধ করা হয় ৮৬০টি অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক৷
বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, "দেশের মাত্র ৩৫ শতাংশ চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে হয়, বাকি ৬৫ শতাংশ হয় বেসরকারি হাসপাতালে৷ ফলে বেসরকারি খাতের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই৷ বিশেষ করে কোভিডের সময় আমাদের এখানে যে চিকিৎসা হয়েছে, সেটা তো আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না৷ উন্নত দেশগুলো যেখানে হিশশিম খেয়েছে সেখানে আমরা কত চমৎকারভাবে সামাল দিয়েছি৷ এগুলো মাথায় নিয়েই অভিযান চালাতে হবে৷ অবৈধদের বিরুদ্ধে অভিযানে আমাদের আপত্তি নেই৷ কিন্তু বৈধ যারা তাদের যেন কোনভাবেই হয়রানি করা না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে৷”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, "দেশের আনাচে-কানাচে গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার অনিবন্ধিত ক্লিনিক-হাসপাতাল৷ ফলে অধিকাংশ হাসপাতালে প্রতিদিনই ঘটছে নানা অঘটন৷ ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে রোগীদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে প্রায়ই৷ অনেক প্রতিষ্ঠানের তথ্যও নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে৷ দেশজুড়ে এমন অবৈধ, নিবন্ধনহীন হাসপাতালের সংখ্যা হাজার হাজার৷ যেগুলোর বেশির ভাগেরই নাম ও অবস্থান জানে না অধিদপ্তর৷ অনলাইনে আবেদনের পর স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টোকেন, সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন ক্লিনিক মালিকেরা৷ এসব অবৈধ, নিবন্ধনহীন ক্লিনিক-হাসপাতাল বন্ধে নানা সময়ে অভিযান পরিচালিত হলেও আসলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না৷ বরং এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে৷”
স্টাফ রির্পোটার
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন