৫২ বছর পর দেশের রাজনীতিতে এক স্মরণীয় বিজয়ের সাক্ষী হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জোট প্রার্থীকে পরাজিত করে পিতার হারানো সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিএনপি–জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব-কে হারিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ফলাফলের কাগজ হাতে পেয়েই রুমিন ফারহানা ছুটে যান তাঁর দাদা-দাদির কবর জিয়ারতে। এ জয়ে আনন্দে মেতে ওঠে সরাইল, আশুগঞ্জ, চান্দুরা ও বুধন্তি এলাকার মানুষ। সমর্থকদের অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় ছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে জোট সমঝোতায় বিএনপি মনোনয়ন দেয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তার প্রতীক ছিল হাঁস, আর প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতীক ছিল খেজুরগাছ। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী খেজুরগাছ প্রতীকের পক্ষে মাঠে নামলেও অনেক পদধারী ও পদবঞ্চিত নেতা গোপনে ও প্রকাশ্যে হাঁস প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। এ কারণে শতাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
সব প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে নির্বাচনী এলাকার ১৯টি ইউনিয়নে রুমিন ফারহানার পক্ষে তৈরি হয় গণজোয়ার। উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশে নারী-পুরুষের ঢল নামে। হাটে-বাজারে, মাঠে-ঘাটে হাঁস প্রতীকের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জয় যেন সময়ের অপেক্ষা মাত্র ছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৫১টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট শেষ হয়। রাত ১১টার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকার এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে হাঁস প্রতীক নিয়ে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুনায়েদ আল হাবীবের খেজুরগাছ প্রতীক পেয়েছে ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
জয়ের পর রুমিন ফারহানা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, “এই এলাকার মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর হওয়া অন্যায় ও জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতায় পিতার হারানো আসন ফিরে পেয়েছি। এখন তাদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবো।”
তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় প্রশাসনসহ পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন