ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ‘প্রেক্ষিত, প্রস্তুতি ও মানবিকতার এক সমন্বিত বিবরণ

ঢাকা — ভূগোলগত বাস্তবতা এবং প্রকৃতির খেয়ালিপনা আচরণের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট
  • আপলোড সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯:৫৫ সময়
  • আপডেট সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯:৫৫ সময়
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ‘প্রেক্ষিত, প্রস্তুতি ও মানবিকতার এক সমন্বিত বিবরণ

ঢাকা — ভূগোলগত বাস্তবতা এবং প্রকৃতির খেয়ালিপনা আচরণের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স’ তালিকায় প্রায় সব বছরই দেশের অবস্থান শীর্ষসারির দেশগুলোর মধ্যে থাকে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং বজ্রপাত—এই সবই দেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী। এই পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন রক্ষার এক প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সরকারের বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘ফ্রন্টলাইন ডিফেন্ডার’ হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শৃঙ্খলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী দুর্যোগকালে জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র ত্রাণ বিতরণ নয়; এটি একটি সমন্বিত বিজ্ঞান ও কলাকৌশল, যার মধ্যে থাকে ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, জরুরি প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার। জনসংখ্যা ঘনত্ব ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ছোট কোনো দুর্ঘটনাও বড় মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।


দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল নির্দেশিকা হলো ‘দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি’ (Standing Orders on Disaster – SOD), যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের দায়িত্ব নির্ধারিত। এর আওতায় সেনাবাহিনী ‘সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা’ (Aid to Civil Power) হিসেবে কাজ করে থাকে।


সেনাবাহিনীর ভূমিকায় রয়েছে—

দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি: উপকূলীয় অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা প্রচার, যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও জরুরি সরঞ্জাম মজুদ।

দুর্যোগকালীন প্রতিক্রিয়া: সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, রসদ ও ত্রাণ সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসা ও পানি সরবরাহ।

পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন: বাঁধ মেরামত, সেতু–রাস্তা নির্মাণ, আশ্রয় কেন্দ্র পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা।


সেনাবাহিনী গত কয়েক দশকে অসংখ্য দুর্যোগে তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, সিডর (২০০৭), আইলা (২০০৯)-এ বিদেশী ও স্থানীয় সহায়তার পাশাপাশি উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা দুর্ঘটনা-তেও সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুঁড়েছে। সম্প্রতিক কালে ২০২২ সালের সিলেট–সুনামগঞ্জ বন্যা ও ২০২৩ সালের ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ২০২৪ সালের ভয়াবহ দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায়ও তারা আশানুরূপ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগের তীব্রতা আরও বাড়বে। তাই প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, জনগণের সঙ্গে সমন্বয়, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ ও বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।


বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা একেবারেই অপরিহার্য, এবং ভবিষ্যতে তা আরও শক্তিশালী করতে সরকার, জনসাধারণ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফার্মাসিস্টস ফোরাম ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কমিটি অনুমোদন

ফার্মাসিস্টস ফোরাম ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কমিটি অনুমোদন