আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে কুদস ফোর্স-কে ইরানের সবচেয়ে পরিচিত বাহিনী হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে দেশটির সামরিক শক্তি আরও বিস্তৃত ও স্তরভিত্তিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বা সীমিত সামরিক অভিযানে ইরান নির্ভর করে বিকেন্দ্রীকৃত একাধিক বিশেষ ইউনিটের ওপর। এসব ইউনিট একক কোনো বাহিনীর অধীনে না থেকে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করে।
আইআরজিসি-এর স্থল বাহিনীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো ‘সাবেরিন’ ইউনিট। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্রিগেড নয়, বরং বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটে ছড়িয়ে থাকা বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যদের নেটওয়ার্ক, যারা দুর্গম এলাকায় অভিযান, দ্রুত অবতরণ এবং আকস্মিক হামলায় দক্ষ। অন্যদিকে নিয়মিত সেনাবাহিনী আর্তেশ-এর অধীনে রয়েছে ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড, যা ‘নোহেদ’ নামে পরিচিত। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সরাসরি অভিযান পরিচালনায় এই ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। সিরিয়ার সংঘাতে এদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনা করে আইআরজিসি নৌবাহিনী-এর বিশেষ শাখা। জাহাজ আটক, জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বীপভিত্তিক অবস্থান শক্ত করার ক্ষেত্রে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে রয়েছে বাসিজ বাহিনী। যদিও মূলত অভ্যন্তরীণ দমনে তাদের ব্যবহার করা হয়, কিছু বিশেষ ইউনিট বিদেশি সংঘাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই সামরিক কাঠামো কোনো একক এলিট ফোর্সের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এটি বহুস্তরীয় সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে স্থানীয় ইউনিট থেকে শুরু করে উচ্চ প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনী পর্যন্ত ধাপে ধাপে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন