৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের আপাতত সমাপ্তি ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা থামেনি, ফলে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। এরপর টানা পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়। অবশেষে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও সেটির কার্যকারিতা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে কে বিজয়ী বা পরাজিত তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেই ক্ষতির প্রকৃত হিসাব ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সমঝোতা বৈঠকে।
ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি—
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে এবং হাজারো বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি—
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছে। যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার ঘটনায় বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইল ও আঞ্চলিক প্রভাব—
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ৪০ দিনের যুদ্ধে দেশটিরও বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সমঝোতা বৈঠকের দিকে নজর—
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন পাকিস্তানে শুরু হওয়া সমঝোতা বৈঠকের দিকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন