ইউরোপজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির সরবরাহ সংকট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) ইউরোপ। এসিআই ইউরোপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশনার অ্যাপোস্টোলোস টিজিটজিকোস্টাসকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে ইউরোপে জেট ফুয়েলের ঘাটতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ সময় ধরে আংশিক বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক জেট ফুয়েলের দাম গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে টনপ্রতি প্রায় ১,৬৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপে এই দাম বৃদ্ধি ১৩৮ শতাংশ এবং এশিয়ায় ১৬৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও’লরি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, কারণ দেশটি নির্দিষ্ট জ্বালানি সরবরাহ উৎসের ওপর অধিক নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে বিকল্প সীমিত হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি দ্রুত বাড়তে পারে।
ইতিমধ্যে কিছু ট্যাংকার ইউরোপে জ্বালানি পৌঁছালেও নতুন সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশগুলোকে এশিয়ার বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলো বলছে, সংকট অব্যাহত থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো, টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং ভ্রমণ ব্যয়ে বড় চাপ সৃষ্টি হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আইএটিএ মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, যা বিমান শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন