ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ৬৪ বড় ভাই

চট্টগ্রাম নগরে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ সহিংসতায়
  • আপলোড সময় : ১১ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
  • আপডেট সময় : ১১ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৯:৫৬ সময়
চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ৬৪ বড় ভাই

চট্টগ্রাম নগরে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে বয়সে কিশোর এসব অপরাধী চক্র। নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া, আধিপত্য বিস্তার এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক জরিপ অনুযায়ী, নগরীতে বর্তমানে প্রায় ২০০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। গত ছয় বছরে সংঘটিত অন্তত ৫৪৮টি অপরাধে এসব গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৬৪ জন প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’-এর পৃষ্ঠপোষকতার তথ্যও উঠে এসেছে, যারা এসব গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ ও উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


বিভিন্ন সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, নগরীর স্টেশন রোড, চকবাজার, কদমতলী, আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। এসব এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


পুলিশ ও র‍্যাব নিয়মিত অভিযান চালালেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে একাধিক কিশোর গ্যাং সদস্য ও লিডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অপরাধচক্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ‘বড় ভাইদের’ কারণে কিশোর গ্যাং আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে আইন প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নজরদারির অভাব, মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান কঠিন হবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কঠোর হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা

কঠোর হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা