আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছর এবং পরবর্তী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান সময় এমন এক পর্যায়ে এসেছে যখন অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই চাপের মুখে রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি বিগত ১৬ বছরের অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতা, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিএনপির আগের শাসনামলের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনামূলক চিত্রও উপস্থাপন করেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি এখন “ঝুঁকিপূর্ণ”, খেলাপি ঋণ বেড়ে ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে এবং অনেক ব্যাংক কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণনির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, কৃষি ও শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে “কর্মসৃজনবিহীন প্রবৃদ্ধি” তৈরি হয়েছে, যা তরুণদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি আয়ের বৈষম্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মূল্যস্ফীতি ৫–৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, করজাল সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ, এসএমই খাতের উন্নয়ন এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের রোডম্যাপ নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন